সেদিনও হবে ভোর

0
7

সেদিনও ভোর হবে

——-

সেদিনও ভোর হবে, গাছে ডাকবে পাখি
কলকাকলিতে মুখর হবে এ প্রান্তর;
সেদিনও মেঘের ঘনঘটাও থামাবেনা
তোমার নিয়ত ছুটে চলার গতিময়তা.
শুধু পদচিহ্ন থাকবেনা তোমার!

সেদিনও পূর্বাহ্ন মধ্যাহ্নে কিরণ দিবে
মাথার উপর বিকিরিত সূর্যের লাভা
ঘর্মাক্ত দুপুরে বটবৃক্ষের ছায়াতলে
বিশ্রামের বায়ু তোমায় স্নিগ্ধতা দিবে,
দায়িত্ব আবারো তোমায় তাড়াবে বন্ধু
এই সেই বটতলা, এই সেই হাটখোলা
পানকৌড়ির আর মাছের মিছিল অনিন্দ্য
কখনো টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার ছন্দ;
সবই আগের মতোই থেকে যায়, ওহে
তোমার অগোচরেও, বন্ধু, নদী বহে..

বিকেলের খেলার মাঠটা নেই ততটা
নেই দুরন্তদের বাঁধহীন ছুটে চলাও!
মোবাইলে আসক্ত প্রজন্ম এখন মাঠে নেই,
সময় তোমায় টেনে নেয় সে শৈশবেই?
ওপার থেকে রেফারির কাজ তোমার সাধে না
সময়ের সাথে নেই তুমি নিঃশ্বাস, মিছে সাধনা!
আজ কিন্তু তুমি ওপারেই হে বন্ধুবর!

সাঁজের মায়া, ঝিঁঝিপোকার ডাক
হুতম পেঁচা কিবা শেয়ালের ভীতিকর ডাক,
নিশীথ রাতের সৌন্দর্য কিবা পূর্ণিমার কোমল আলো,
গভীর রাতের হারিকেন বা ভয় তাড়াতে
গান বা চিৎকারে আঁধার কবরস্থান পার হবে কিশোর!
এভাবে যে একদিন তোমার কৈশোরে কেটেছে গাঁয়ের পুকুরপাড়ের রজনীক্লান্তি
সেসব ভুলে গিয়ে পৃথিবী ছুটবে নবশতাব্দির গানে
কে বুঝবে ওপার থেকে তোমার নস্টালজিয়া
‘আমি ছিলাম একদিন এ ভবমাজারে’..

সেদিনও সব নৈঃশব্দের শব্দ ভেদ করে
‘আসসালাতু খাইরুম মিনার নার’ ধ্বনি
মসজিদের মিনার থেকে কর্ণকুহরে
কাউকে জাগাবে, কাউকে জাগাবেনা
বুকের উপর সাড়ে তিন বা চারহাত
মাটির ছাদ নিয়ে সুখে বা দুখেই থাকো
কে রাখবে তার খোঁজ? খোঁজ রাখাই কী যায়?

এতসব ভাবনা কারো থাকবেনা সেদিন
তারা থাকবে ভোরের প্রতিক্ষায় লাঙল গরু অপেক্ষারত, কৃষাণীও ব্যস্ত
সেদিনও ফুটবে ফুল, শষ্যে শ্যামল মাঠ…
ক্লান্ত ঘাট বা দুরন্ত কিশোরের মাঠ
সব ব্যস্ততার চাপে রাত আর থাকবেনা ঘুমে
শুধু থাকবেনা অস্তিত্ব তোমার, বন্ধু
সেদিনও হবে আরেকটি নব ভোর……


মোঃ নাজিম উদ্দিন
জুলাই ৩১, ২০২১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here