এ জীবন, ‘সে’ জীবন

39
32

এ’ জীবন, ‘সে’ জীবন

*******

জীবনটা এক বহতা নদীর মত। যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আঁশ (আশা). এ যাত্রার শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই; আর হঠাৎ কোন রাস্তার মাঝে তা স্তিমিত হয়ে যায়, তা সে যাত্রী জানে না।

জীবনকে বিভিন্ন প্রকারে, বিভিন্ন স্তরে উপভোগ করা যায়। কেউ জীবনের নির্জাসের প্রায় পুরোটাই উপভোগ করে থাকে; কেউ বা অর্ধেকটা আর গড়পরতা মানুষ তার সিকিভাগও উপভোগ করতে সক্ষম হয় না।

তুলনাটা এভাবে দেয়া যায়। ধরুন, আপনি অন্য সবার মত আপনিও ব্যস্ত জীবন পার করছেন। খুব ক্লান্তিকর হয়ে উঠে প্রতিটা সপ্তাহান্ত (উইতএন্ড)। প্রকৃতির মনমোহিনী রূপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গেলে কিছুটা একগেঁয়েমি কেটে যেত, সেটা জানেন। শুনেছেন নৈসর্গিক সাজেকে মেঘের স্পর্শে ভুলে থাকা যায় কিছু বেদনাও। কিন্তু সে সুযোগ আপনি নিতে চান না। সব জেনেও নিজের জীবনটা অনুপভোগ্য হয়ে থাকে অনেকের কাছে। জীবন তাদের কাছে ক্যালেন্ডার দেখে এক একটি তারিখ পার করার মত! এরা জীবনের রূপ-রস উপভোগের সিকিভাগেও পৌঁছায় না!

আরেক শ্রেণির মানুষ দেখবেন, জীবনের চাপে নুয়ে পড়ে ভাল থাকার চেষ্টা করে কিছুটা!
সামাজিক-পারিবারিক চাপে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করেন, তবে পুরোপুরি নয়। তাদের দেখবেন, ভূপৃষ্ঠ থেকে আড়াই হাজার ফুট উঁচুতে চাঁদের গাড়িযোগে রাঙামাটির সাজেক পৌঁছাবেন ঠিকই, কিন্তু যখন হেঁটে উঁচু পথ মাড়ি দিয়ে কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় উঠার ইচ্ছা তার জাগেনা! এরা জীবনের অর্ধেকের কাছাকাছি উপভোগ করতে পারে।

অন্য এক শ্রেণির মানুষ আছেন যারা যে কোন মূল্যে জীবনকে তলানির প্রান্ত পর্যন্ত উপভোগ করতে চান। মনের তাগিদে যেমন সাজেকের মত সুউচ্চ পাহাড়ের উঠেই কান্ত হন না, বরং শত কষ্ট করে হলেও কংলাকের মত উচ্চতম চূড়ায় উঠে লাইভে এসে নিজের উপভোগ্য মুহুর্ত বিলিয়ে দেন। তারা স্মৃতির মন্দিরে গেঁথে রাখে সেসব মুহুর্তের নির্জাসও। এরা যেকোন পরিস্থিতি, যে কোন স্তরে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে জীবন-পুস্তকের সকল শব্দে অবগাহন রতে চান।

জীবন নামের বিস্ময়কর এ উপহারের প্রতিটি অংশকে যারা যেভাবে কাজে লাগাতে পারে, তারা ততটাই সার্থক। এ সার্থকতা বৈষয়িক কোন মানদন্ডে পরিমাপযোগ্য নয়; এ সাফল্য যতটা না বৈষয়িকভাবে তুলনাযোগ্য, তার চেয়েও অধিক উপলব্ধিগত; ইন্দ্রিয়গত ভোগের চেয়ে অধিক ইন্দ্রিয়াতীত। তাই দেখা যায়, কুঁড়ে ঘরের বাসিন্দার হাসি অট্টালিকার স্বত্ত্বাধিকারির চেয়েও অধিক স্বর্গীয়, অধিক উপভোগ্য। অন্যদিকে, বৈষয়িকভাবে প্রতিষ্টিত কোন বিজনেস টাইকুনের প্রাপ্তি তাকে যতটা না পরিতৃপ্ত বা আন্দোলিত, সম্পন্ন হওয়া এক লেখকের লেখনি, কবির কাব্য, সুরকারের সুর কিংবা গীতিকারের গানসৃজনের পর তার চেয়ে বেশি পরিতৃপ্ত।

কাঙ্খিত জীবন সফল জীবনের চেয়ে বেশি আরাধ্য আর পরিতৃপ্ত জীবন কাঙ্খিত জীবনের চেয়েও সার্থক, কৃতিত্বপূর্ণ।

জীবন যেন একমুখী গলি যেখানে পেছনে ফেরার কোন সুযোগ নেই।
এ এক বিরল বিস্ময়কর যাত্রা।
প্রতিটি মুহুর্ত হতে সর্বোচ্চ উপভোগের বিকল্প নেই। পরিতৃপ্তি, পরিমিতিবোধ আর পরিপূর্ণতার শষ্যে জীবনতরী পরিপূর্ণ করার মাঝেই প্রকৃত সফলতা, সার্থকতা।

‘এ’ বৈষয়িক প্রাপ্তির জীবন ‘সে’ পরিতৃপ্তির জীবনের কাছে হার মানুক; প্রতিটা মুহুর্তে প্রতি চুমুকে উপভোগ্য হোক এ জীবন।

———
মোঃ নাজিম উদ্দিন

39 COMMENTS

  1. Thanks for the sensible critique. Me & my neighbor were just preparing to do a little research on this. We got a grab a book from our local library but I think I learned more from this post. I am very glad to see such great information being shared freely out there.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here